মানুষকে দূরে রাখতেই চীন দুদেশের সঙ্গে সীমানা প্রাচীর করছে

মানুষকে দূরে রাখতেই চীন দুদেশের সঙ্গে সীমানা প্রাচীর করছে

মানুষকে দূরে রাখতেই চীন দুদেশের সঙ্গে সীমানা প্রাচীর করছে
ছবি: সংগৃহীত

বৈচিত্র ডেস্ক:ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমানা প্রাচীর জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। দেশটি এই পদক্ষেপ দ্বন্দ্বের কারণ এড়াতে ও মানুষজন যেন তাদের সীমানায় প্রবেশ করতে না পারে তার ভিত্তিতেই নিচ্ছে। 

জানা যায়, ইউএনএসডব্লিউ ক্যানবেরার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও ইমেরিটাস অধ্যাপক কার্ল থায়ার বলেছেন, এটিকে একটি জাতীয় ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, ভিয়েতনামের এই প্রকল্পে বিলিয়ন নদীর তীরে কাঁটাতারের সঙ্গে একটি সাড়ে চার মিটার উঁচু লোহার বেড়া যুক্ত।

এর আগে, ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে নির্মিত ২৯ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি ১২ কিলোমিটার প্রসারিত হয়েছে। আর এই প্রকল্পটি সেখানকার পণ্য, মাদক এবং লোকজনের পাচার রোধ করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছে তারা।

তবে অধ্যাপক থায়ার মনে করেন, যদিও চীনের সাম্প্রতিক সীমানা করার পেছনে পাচার মূল কারণ নাও হতে পারে। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে যখন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ হয়েছিল তখন চীন ও ভিয়েতনাম উভয়ের পক্ষে অবৈধ সীমান্ত করার একটি প্রধান মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এরইমধ্যে গণমাধ্যমের খবর প্রকাশ করেছে যে, চীনের ইউনান প্রদেশ এবং মিয়ানমারের উত্তর শান রাজ্যের মধ্যে গত ডিসেম্বরে মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের ২ হাজার কিলোমিটার সীমান্ত ধরে ৬৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারিজনিত কারণে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমকারীদের বন্ধ করার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক ব্যাখ্যায় চীন জানিয়েছিল।

উল্লেখ্য, ভিয়েতনামে কোভিড-১৯-এ মাত্র ১৫০০ জন শনাক্ত হয়েছে। আর মারা গেছে ৩৫ জন। এছাড়া চীনে ৯৮ হাজারেরও বেশি মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছে। আর মারা গেছে ৪ হাজার ৭৯৮ জন মানুষ।

এদিকে মিয়ানমারে কোভিড-১৯-এ এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত মাসে মিয়ানমার থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে ভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গ দেখা দিয়েছে বলে দ্য সিঙ্গাপুর পোস্টের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।