জাতীয় ফুটবল তারকারা প্রস্তুতিতে এগিয়ে আছে

জাতীয় ফুটবল তারকারা প্রস্তুতিতে এগিয়ে আছে

জাতীয় ফুটবল তারকারা প্রস্তুতিতে এগিয়ে আছে
ছবি: সংগৃহীত

বৈচিত্র্য ডেস্ক:ফুটবলাররা করোনায় সাত মাস ঘরে বসে ছিলেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা প্রথম মাঠে নামেন। নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য দ্বিগুণ পরিশ্রম করে নিজেদের তৈরি করেন। এরপর কাতারেও খেলে এসেছেন তাঁরা। এদিকে ক্লাবগুলো ধীরে ধীরে আড়মোড়া ভেঙেছে। বসুন্ধরা কিংস বাদে বাকি দলগুলো গত মাসে মাঠে নেমেছে, তা-ও শেষ ভাগে। অর্থাৎ জাতীয় দলের বাইরের ফুটবলাররা খেলার বাইরে আরো বেশি সময়।

ফেডারেশন কাপের প্রস্তুতিতে তাই যে দলগুলোয় জাতীয় দলের খেলোয়াড় বেশি আছে তারা এগিয়ে থাকছে বলেই মনে করেন শেখ রাসেল কোচ সাইফুল বারী, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা নতুন মৌসুমের জন্য পুরোপুরি তৈরি বলা যায়। ফিটনেস তো তারা ফিরিয়ে এনেছেই, সেই সঙ্গে তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে তাদের। ফেডারেশন কাপে এই খেলোয়াড়রা তাই ছন্দে থেকেই পারফর্ম করতে পারবে বলে মনে হয়। বাকি খেলোয়াড়দের কিন্তু এই ফেড কাপেই প্রথম মাঠে নামতে হবে।’ গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম ছাড়া শেখ রাসেলের আর কেউ জাতীয় দলে নেই। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ শুরুতে ক্যাম্পে ডাক পেলেও পরে বাদ পড়েছেন। সাইফুল বারী অবশ্য মনে করেন তাঁর দলে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার মতো আরো অনেক খেলোয়াড়ই আছেন। পারফরম্যান্স দিয়ে সেই জায়গাটা আদায় করে নেওয়ার জন্য এ মৌসুমে তাঁদের উদ্বুদ্ধও করছেন তিনি। রাসেল অবশ্য বিদেশি সংগ্রহে সেরাদের কাতারেই থাকবে। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার জিয়ানকার্লো লোপেজের সঙ্গে বখতিয়ার দুশোবেকভ, ওবি মোনেকে ও তাজিক সেন্টারব্যাক আসোরভকে নিয়ে তারা দলের শক্তি বাড়িয়েছে।

উঁচু মানের বিদেশি সংগ্রহে শেখ রাসেল, আবাহনীর মতো ক্লাবকে পথ দেখিয়েছে আসলে বসুন্ধরা কিংস। দানিয়েল কলিনদ্রেস, হার্নান বার্কোস চলে যাওয়ার পরও নতুন দুই ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ফার্নান্দেস, রোবিনহোর সঙ্গে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার রাউল অস্কার ও ইরানি একজন সেন্টারব্যাককে তারা দলে নিয়েছে। সবার আগে প্রস্তুতিও শুরু করেছে তারা। জাতীয় দলের খেলোয়াড়ে তো তারা আগেই এগিয়ে। চাইলে কিংসের খেলোয়াড়দের দিয়েই শক্তিশালী একটি জাতীয় দল করে ফেলা যায়। সর্বশেষ ডাকা ৩৬ জনের প্রাথমিক দলে তাদের খেলোয়াড়ই ছিল ১৪ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতজন করে আবাহনী ও সাইফ স্পোর্টিংয়ের। তিনজন চট্টগ্রাম আবাহনীর এবং দুজন করে শেখ রাসেল ও পুলিশ এফসির। উত্তর বারিধারার খেলোয়াড় ছিল একজন। অর্থাৎ ফেডারেশন কাপে ফিটনেস এবং ছন্দে থাকা ফুটবলারদের নিয়ে কিংস, আবাহনী, সাইফ বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। সাইফ যদিও অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াকে পাচ্ছে না। দলটি এবার বিদেশি কোটায় চারজন আফ্রিকানকে নিয়েছে। সঙ্গে হাই প্রোফাইল কোচ পল পুটকে নিয়ে তারা শিরোপার দাবি জানাতে পারে কি না সেটাই দেখার। খাতা-কলমে সেরাদের কাতারে না থেকেও গতবার সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফর্ম্যান্স ছিল চট্টগ্রাম আবাহনীর, আগের খেলোয়াড়দের ধরে রাখায় এবার তাদের সম্ভাবনায় রাখতেই হবে কিংস ও আবাহনীর সঙ্গে। অবশ্য ফেডারেশন কাপের মতো স্বল্প দৈর্ঘ্যে টুর্নামেন্টে যেকোনো দলই আশা করতে পারে, গতবার যেমন ফাইনাল খেলেছে রহমতগঞ্জ। এবার সময়মতো দলবদল না করায় ব্রাদার্সের অবশ্য এই আসরে খেলা নিয়েই অনিশ্চয়তা ছিল, তবে কাল তারা অনুমতি পেয়েছে।