গলাকেটে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা

গলাকেটে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা

গলাকেটে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

বৈচিত্র ডেস্ক:নিজের শোবার ঘর থেকে সাবিনা আক্তার (২১) নামের এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গভীর রাতের কোন এক সময় পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের কমরভোগ গ্রামে তার শয়ন কক্ষে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পুলিশ বুধবার সকালে লাশ উদ্ধার করে সুরত হাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত অনুমান সাড়ে ১১টার দিকে মা-বাবার বসত ঘরের সংযুক্ত বারান্দার ছোট্ট কক্ষে সাবিনা আক্তার ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে সাবিনার বাবা নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হয়ে দেখে মেয়ের কক্ষের দরজা খোলা। মেয়ে সাধারণত সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত ঘুমায়। কিন্তু ভোরে ঘরের দরজা খোলা দেখে তার বাবা ফুল মিয়া সাবিনা সাবিনা বলে ডাকতে ডাকতে তার কক্ষে প্রবেশ করে। মেয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে ভেবে তার পায়ে ধরে টান দিতেই রক্তাক্ত বিছানায় মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশে পাশের লোকজন ছুটে আসে।

নিহতের পিতা জানান, তার চার মেয়ের মধ্যে সাবিনা সবার ছোট। অন্য মেয়েদের একটু দূরে দূরে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে সাবিনাকে তার বড় ভাইয়ের ছেলে সৌদি প্রবাসী দ্বীন ইসলামের সাথে ৩বছর পূর্বে বিয়ে দেন। বড় ভাই ও তার ঘর একই আঙিনায়। গতকাল সাবিনা আমার বসত ঘরের বারান্দার ছোট কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। তার মেয়েকে কে বা কারা হত্যা করেছে তা খুজে বের করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন।

নিহতের মা বলেন, বিয়ের পর তার স্বামী বিদেশ চলে যায়। মেয়েকে স্বাবলম্বি করার জন্য সেলাই কাজের প্রশিক্ষণ নিতে বলেন। মেয়েও আগ্রহ নিয়ে সেলাই কাজ শিখে। ইদানিং সে বাড়ির আশে পাশের ছোট বাচ্চা ছেলে মেয়েদের জামা কাপড় সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। গত রাতেও সে কিছু সেলাই কাজ করে রাত ১১টার দিকে আমাকে সাথে নিয়ে টয়লেট সেরে তার কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে থাকে। তবে কে বা কারা কিভাবে দরজা খুলেছে তা বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি ধারণা করছেন টয়লেটে যাওয়ার পর কেউ ধারালো অস্ত্র নিয়ে চুপিসারে তার কক্ষে লুকিয়েছিল। সবাই ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে মেয়েকে হত্যা করে তার ব্যবহৃত দেড় ভরি ওজনের গলা, নাক, কানের স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।