কবিতায় আড্ডায়, পঞ্চাশের দুই প্রয়াত কবি আল মাহমুদ এবং ফজল শাহাবুদ্দীন স্মরণ

কবিতায় আড্ডায়, পঞ্চাশের দুই প্রয়াত কবি আল মাহমুদ এবং ফজল শাহাবুদ্দীন স্মরণ

কবিতায় আড্ডায়, পঞ্চাশের দুই প্রয়াত কবি আল মাহমুদ এবং ফজল শাহাবুদ্দীন স্মরণ
কবিতায় আড্ডায়, পঞ্চাশের দুই প্রয়াত কবি আল মাহমুদ এবং ফজল শাহাবুদ্দীন স্মরণ

বৈচিত্র ডেস্ক:পঞ্চাশের দুই প্রবল কবি আল মাহমুদ এবং ফজল শাহাবুদ্দীনকে কথায়-কবিতায় স্মরণ করলো তাদের ভক্ত এবং অনুজ কবিরা। এ উপলক্ষে রাজধানীর কবিতা ক্যাফেতে যেন জমে উঠেছিল কবি এবং কবিতার হাট। বিকেল থেকে রাত অবধি জমে ওঠা এ মিলন মেলায় মধ্যমনি হয়ে এসেছিলেন ষাট দশকের ভিন্নধারার কবি জাহিদুল হক। স্মরণে বরণে শ্রদ্ধায় সবাইকে আবেগময় করে তুলেছিলেন কবি ও সম্পাদক আতাহার খান, কবি মাহবুব হাসান এবং কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।
পুরো আয়োজনটির উদ্যোগে ছিল কবিতার কাগজ “কবি এবং কবিতা”। আর সভাপতি ছিলেন কাগজটির সম্পাদক কবি শাহীন রেজা।
অনুষ্ঠানের প্রথমেই কবি জাকির আবু জাফর রচিত ‘আল মাহমুদ, যেমন দেখেছি তাকে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচিত হয়। গ্রন্থটি নিয়ে কথা বলেন, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। এরপর উন্মোচিত হয় কবি জামসেদ ওয়াজেদ সম্পাদিত ছোটকাগজ ‘জলছবি’র কবি ফজল শাহাবুদ্দীন সংখ্যার। সংখ্যাটি নিয়ে কথা বলেন, কবির প্রিয়ভাজন এবং দীর্ঘদিনের সহচর কবি শাহীন রেজা।
উচ্চারিত দুই কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান অতিথি কবি জাহিদুল হক বলেন, বাংলা কবিতায় আল মাহমুদ নিজেই একটি মিথ। তিনি এমন একজন কবি যিনি নিজেই একটি নিজস্ব কবিতার ভাষা নির্মাণ করেছিলেন। সহজতর উচ্চারণে কিভাবে ভাবনাকে গভীর থেকে গভীরতর স্থানে পৌঁছে দেয়া যায় শব্দযাদুকর আল মাহমুদ তা আমাদের শিখিয়ে গেছেন।
ফজল শাহাবুদ্দীন সর্ম্পকে তিনি বলেন, অন্তর্গত হাহাকারে নিমজ্জিত এ কবি চিরকাল এক ছায়াহীন সময়ের পিছু ধাবিত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা তার কবিতাগুলো আমাদের জাতির জন্য একটি সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। কবি আতাহার খান বলেন, আল মাহমুদকে পাঠ না করলে সমকালীন বাংলা কবিতাই অপাঠ্য থেকে যাবে। একজন কবিকে কবি হয়ে উঠতে যেমন সমকালকে ধারণ করতে হয় তেমনি অতীতের সাথে রচনা করতে হয় ভবিষ্যতের সেতুবন্ধ। আল মাহমুদ সেটি পেরেছিলেন যে কারণে তিনি মৃত্যুর পরেও ভাস্বর হয়ে আছেন এবং থাকবেন অনন্তকাল। এ ক্ষেত্রে ফজল শাহাবুদ্দীনের অর্জন কিছুটা ভিন্নরকম। তিনি নাগরিক ভাষায় কথা বলেছেন, তার অধিকাংশ কবিতাই নাগরিক মূল্যবোধে আচ্ছন্ন তবে তার সাথে যুক্ত হয়েছে দেশপ্রেম, মানবতা, নারীপ্রেম এবং স্বাধীনতা।
মাহবুব হাসান বলেন, আল মাহমুদ এবং ফজল শাহাবুদ্দীন দু’জনেই নিজ নিজ স্থান থেকে পঞ্চাশকে প্রতিনিধিত্ব করে গেছেন। তাদের মৃত্যু এক অপূরণীয় শূন্যতা। তিনি বলেন, একজন কবিকে সন্দেহাতীতভাবে একটি নির্দেশনা তৈরী করে যেতে হয়, এক্ষেত্রে  তারা দু’জন সফল বলেই আমি মনে করি। তিনি বলেন, আল মাহমুদের ‘সোনালি কাবিন’ নোবেল পাবার যোগ্য, আমরা জীবদ্দশায় কবিকে তার যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করতে পারিনি এটা আমাদের দেউলিয়াত্ব।
রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, কবিতা স্বপ্নের ঝুড়ি। আজকের আলোচিত দুই কবি সেই ঝুড়ি থেকে অকাতরে আমাদের সমৃদ্ধ করে গেছেন। বাংলা কবিতায় তারা চিরকাল স্ব স্ব মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, আল মাহমুদ বাংলা কবিতার একটি জীবন্ত বিষ্ময়। কিংবদন্তী এ কবি চিরকাল আমাদের পথ প্রদর্শক হয়ে থাকবেন। ফজল শাহাবুদ্দীন হৃদয়ে জ্বলবেন ধ্রুবতারার মতো।
সভাপতির বক্তব্যে শাহীন রেজা বলেন, কবিতা হচ্ছে জীবনের সংলাপ। আল মাহমুদে আমরা সেই সংলাপকে আবিস্কার করি আর ফজল শাহাবুদ্দীনে আমাদের প্রাপ্তি নারী ও নিগর্স যাতে আমরা নিয়ত ¯œান করি আর সমৃদ্ধ হই।
আয়োজনে দুই কবির প্রতি কথা ও কবিতায় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ছড়িয়ে দেন কবি বকুল আশরাফ, কামরুজ্জামান, জাকির আবু জাফর, রফিক হাসান, তৌফিক জহুর, ফরিদ ভূঁইয়া, জামসেদ ওয়াজেদ, জায়েদ হোসাইন লাকী, আবিদ আজম, ইমরান মাহফুজ, নাহিন শিল্পী, মেজবাহ মুকুল, নাদিরা খানম,  নাসরিন  ইসলাম, আলাউদ্দিন আদর, মাশরুরা লাকী, হাসানুর রহমান সুুমন প্রমুখ।