আমেরিকা এখন প্রস্তুত বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য

আমেরিকা এখন প্রস্তুত বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য

আমেরিকা এখন প্রস্তুত  বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য
ছবি: সংগৃহীত

মুক্ততথ্য ডেস্কঃ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতি বদলে যুক্তরাষ্ট্র ফের বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন । ‌‘আমেরিকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে’ এই ঘোষণা দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নয়, বরং বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট জো বাইডেন তার নতুন প্রশাসনের জন্য ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা করেছেন। ‌নিজের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা দলের কর্মকর্তাদের নাম জানিয়ে বাইডেন বলেছেন, এই দলের মাধ্যমে এটাই প্রতিফলিত হতে যাচ্ছে যে ‘আমেরিকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে’।

জানুয়ারির ২০ তারিখ দায়িত্বভার নেওয়ার পর ট্রাম্প অনুসৃত ‘একতরফা জাতীয়তাবাদ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে সরিয়ে নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন ৭৮ বছর বয়সী এ রাজনীতিক।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে সম্মতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুতরাং এখন থেকে সর্বোচ্চ গোপনীয় বা টপ সিক্রেট গোয়েন্দা তথ্য পেতে শুরু করবেন জো বাইডেন।

যদিও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো পরাজয় মেনে নিতে রাজি নন। কোন তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আগের মতো তিনি দাবি করে চলেছেন যে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে।

হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এখন প্রতিদিন আন্তর্জাতিক হুমকি এবং নানা বিষয়ের তথ্যের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দায়িত্বভার গ্রহণের প্রস্তুতির জন্য কয়েক মিলিয়ন ডলারের তহবিল পাবেন বাইডেন।

বাইডেনের নতুন প্রশাসনে যারা আসছেন

# অ্যান্টনি ব্লিনকেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী : ব্লিনকেন বলেছেন যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই নম্রতা এবং আস্থার সঙ্গে সমতার সম্পর্ক গড়ে তুলবে।

# জন কেরি, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক দূত : প্যারিস জলবায়ু সমঝোতার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন জন কেরি, যে চুক্তি থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে গিয়েছিলেন। কেরি বলেছেন, জলবায়ু সংকট সামলাতে বিশ্বকে অবশ্যই একতাবদ্ধ হতে হবে।

# এভ্রিল হাইনেস, পরিচালক, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স : বাইডেন বলেছেন, ‘আমি একজন পেশাদার ব্যক্তিকে বেছে নিয়েছি-সত্য বলার মতো একজন সাহসী লোক।’

# আলেহান্দ্রো মায়োর্কাস, মন্ত্রী, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি : মায়োর্কাস বলেছেন, সবাইকে নিরাপদ রাখা এবং সবাইকে গ্রহণ করে নেওয়ার মতো একটি দেশের গর্বিত ইতিহাস রক্ষায় এই দপ্তরের মহান দায়িত্ব রয়েছে।

# জ্যাক সুলিভান, হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা : জো বাইডেনের প্রশংসা করে সুলিভান বলেছেন, তার কাছ থেকে তিনি রাষ্ট্রের অনেক কায়দাকানুন শিখেছেন, তবে সবচেয়ে বেশি শিখতে পেরেছেন মানুষ সম্পর্কে।

# লিন্ডা থমাস-গ্রীনফিল্ড, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত : তিনি বলেছেন, তার পেশার সঙ্গে দক্ষিণ লুইজিয়ানার শেকড় জড়িয়ে রয়েছে। সেখানকার একটি নাচ এবং রান্নার ধরনের সঙ্গে তুলনা করে তিনি প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে বহুমাত্রিক কূটনীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক প্রধান জ্যানেট ইয়েলেনকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও সেই ঘোষণা এখনো আসেনি। কেরি অথবা সুলিভান ছাড়া অন্যসব নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন দরকার হবে। তবে সাধারণত কোন নিয়োগ প্রত্যাখ্যাত হয় না। যদিও সর্বশেষ ১৯৮৯ সালে বেশ কিছু মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।